বারবার শুল্ক বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা ফেড চেয়ারম্যানের

বাজারে অস্থিরতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ধীরগতির হওয়ার পরও মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল।

বাজারে অস্থিরতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ধীরগতির হওয়ার পরও মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল। তার মতে, বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতি ‘ভালো অবস্থায়’ রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হতে পারে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বারবার শুল্ক বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

শুক্রবার এক বক্তৃতায় পাওয়েল ব্যাখ্যা করেন, যদি শুল্কের প্রভাব এককালীন ও স্বল্পস্থায়ী হয়, তবে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। শুল্ক যদি বারবার বাড়ানো হয়, এর মাত্রা যদি অত্যধিক হয়, অথবা দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা যদি বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভকে সাড়া দিতে হবে। সামনের দিনগুলোয় বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আরোপিত শুল্কের উদাহরণ টেনে বলেন, ওই সময় শুল্কের প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়েছিল কিন্তু মূল্যস্ফীতি বাড়েনি। বরং ফেডারেল রিজার্ভকে তখন সুদহার কমাতে হয়েছিল।

এমন সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস দেখা যায়। ৩ দশমিক ১ শতাংশের নিচে নেমে যায় ব্লু-চিপ সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০, যা সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য শুল্ক ও বাজেট কাটছাঁটের নীতির প্রভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। করপোরেট নেতারাও অভিযোগ করেছেন, বাণিজ্য নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে। গত সপ্তাহে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা এমনই এক উদাহরণ।

ভ্যালু ওয়ার্কসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা চার্লস লেমনিডেস বলেন, ‘মার্কিন অর্থনীতি এখন এক মোড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা জানি না নীতি কোথায় যাবে, যা বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।’ অ্যালায়েন্স বার্নস্টিনের জিম টিয়ার্নি বলেন, ‘নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীরা ছিল উচ্ছ্বসিত। কিন্তু গত মাসে সে উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েছে।’

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) জানায়, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৫১ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে, যা রয়টার্সের জরিপে প্রত্যাশিত ১ লাখ ৬০ হাজারের চেয়ে কম। বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ অর্থনীতিবিদরা ৪ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

ফেডারেল রিজার্ভ বর্তমানে সুদহার ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও বাজারে ধারণা, চলতি বছরে সুদহার আরো কমানো হতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন খাতে।

সম্প্রতি পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুল্কের প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেললে কেবল তা ফেডের নীতিতে পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে এর কী প্রভাব পড়ছে তার ওপর।’

এদিকে ট্রাম্পের বাজেট কাটছাঁট ও ইলোন মাস্কের নেতৃত্বে ফেডারেল কর্মী ছাঁটাইও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

অস্থির বাজার শান্ত করতে ট্রাম্প গত সপ্তাহে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক শিথিল করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, তার নীতি বাস্তবায়নে কিছু অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য নীতি ও অর্থনৈতিক সংকেতের দ্বিধার মধ্যেও ফেডারেল রিজার্ভের ধৈর্য বজায় রাখার নীতি আগামী মাসগুলোয় বাজারের জন্য নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এপ্রিলে শুল্ক কার্যকর হলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা ফেডের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তারা বলছেন, চলতি বছর কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে ফেডকে। ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের দ্বিধা, ইউক্রেন-ইসরায়েল সংকটের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি একসঙ্গে কাটিয়ে উঠতে হবে তাদের। পাওয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ যাত্রায় ফেডের কৌশল হবে ‘সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ এবং ‘প্রত্যেক তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ’।

আরও